ওজন কমাতে কখন খাবেন তুলসী পাতা?

 

তুলসী পাতার গুণাগুণ হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একটি করে তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। বাসার বারান্দায় যেখানে আলো–বাতাস চলাচল করে, সেখানে লাগিয়ে রাখতে পারেন উপকারী তুলসীগাছ। এছাড়া যদি রোজ দিন শুরু করা যায় ৪টি তুলসী পাতা খেয়ে, তা হলে নানাভাবে উপকার হতে পারে শরীরের।

কী কী উপকার হয় রোজ তুলসী পাতা খেলে?


১) ওজন নিয়ন্ত্রণ : অনেকেই হয়তো জানেন না যে তুলসী পাতা খেলে ওজন কমে। কিন্তু তুলসী পাতার মধ্যে এমন গুণ আছে, যা হজমের প্রক্রিয়া দ্রুত করে। ফলে তাতে ওজন কমতে পারে তাড়াতাড়ি।

২) মুখের দুর্গন্ধ দূর করে: তুলসী পাতা দাঁতের জীবাণু তাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের সব ব্যাক্টিরিয়া ধ্বংস হয়। তাতেই কমে দুর্গন্ধ।

৩) ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: সর্দি-কাশি বাড়লে অনেক সময়ে তুলসী পাতা খেতে বলা হয়। এই পাতায় এমন কিছু উপাদান আছে, যাতে রয়েছে ফুসফুসের স্বাস্থ্যরক্ষা করার ক্ষমতা। ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ দূরে রাখে তুলসী পাতা।

তুলসী পাতা ওজন কমানোর কাজেও সাহায্য করে। ‘১০১ টি ওজন কমানোর টিপস বইটিতে ডা. শিখা শর্মা লিখেছেন, ‘সকালে ৫-৬টি তুলসী পাতা শরীরকে বিষমুক্ত  করে।’

যদিও অনেক মানুষই আছে যারা তুলসী পাতা খেতে পছন্দ করে না।  তুলসী পাতা পানিতে ডুবিয়ে চা পান করে। কিছু তুলসী পাতা নিয়ে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এটি পান করুন।আপনার দিন তুলসী চা দিয়ে শুরু করতে পারেন।তুলসীর পাতা এবং কিছু পরিমাণ  আদা ফুটন্ত জলে দিয়ে এই চা বানাতে পারেন।

সকালে তুলসী পাতা খেলে কীভাবে তা ওজন হ্রাস করতে পারে দেখে নিন:

বিপাক

তুলসী পাতা আপনার বিপাককে বাড়িয়ে তুলতে পারে।আপনার শরীরের বিপাকীয় হার নির্ধারণ করে সারাদিনে কত পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ানো হবে।তুলসীর পাতাগুলি বিপাককে জোরদার করতে সাহায্য করে।যদি আপনার দ্রুত বিপাক হয় তবে আপনি দ্রুত ক্যালোরি বার্ন করতে পারবেন।

বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণ

তুলসী পাতা বা তুলসী চা প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসাবে কাজ করে। এটি রক্তকে পরিশোধন করে এবং সব বিষাক্ত জিনিস আপনার শরীর থেকে বের করে দেয়। এরফলেও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। গত দিনের বিষক্রিয়া থেকে আপনার শরীরকে পরিষ্কার করে আপনার নতুন দিনকে দুর্দান্তভাবে শুরু করে তুলসী পাতা।

হজম

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, আপনার পাচন তন্ত্রের জন্য আশ্চর্য কাজ করতে পারে আদা ও তুলসী।একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক পাচনতন্ত্রই ওজন কমানোর মূল লক্ষ্য। হজমের সমস্যা থাকলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। কারণ আমরা সঠিকভাবে আমাদের পুষ্টি শোষণ করতে পারি না।বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়াতেও প্রভাব পড়তে পারে। এটি বিপাকীয় হারকে হ্রাস করতে পারে, যা ক্যালরিগুলোকে সঠিকভাবে পোড়াতে দেয় না। ডা. শিখা তার বইয়ে লিখেছেন যে, সকালে খালি পেটে তুলসীর রস (১৫-২০ টি তুলসী পাতা) কোষ্ঠকাঠিন্যর উপশম করতে পারে!

সকালে উঠে খালি পেটে কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে বা রস করে খান। এতে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল কমে। হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ সঠিক থাকে।

লিভারের সমস্যা থাকলেও রোজ সকালে তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। এতে সমস্যা দূর হবে সহজেই।

সর্দিকাশিতে খুব কাজ দেয় তুলসী পাতা। এক চামচ আদার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ তুলসীর রস মধু দিয়ে খান। এতে সর্দিকাশি দূরে থাকবে। যাদের সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যায়, তাঁরা নিয়মিত খেতে পারেন এই মিশ্রণ।

জ্বরেও কার্যকরী তুলসী। কয়েকটি তুলসী পাতা, গোলমরিচ ও মিশ্রী নিয়ে সেদ্ধ করুন। এবার এর জুস বানিয়ে খান। জ্বর থাকার সময় কম করে দিনে দু'বার খান। সহজেই উপকার পাবেন। ইমিউনিটি বাড়াতেও তুলসীর জুরি মেলা ভার।

তা হলে কী ভাবে তুলসি (Tulsi) খাওয়া উচিত?


তুলসি পাতা খাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় চায়ের মাধ্যমে। তুলসি চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে জীবাণুর সংক্রমণ রুখতে ও ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও উপকারি তুলসি।

 এক কাপ হার্বাল চায়ের জন্য ১/৪ কাপ তুলসি পাতা জলে ফুটতে দিন। ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। 

এর মধ্যে ১ চা চামচ মধু ও ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খান। তুলসী গ্রহণের অন্যতম সেরা ও সহজ উপায় হ'ল এটি আপনার চায়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা। 

এর জন্য, প্রথমে আপনি তুলসী পাতা জলে ফুটিয়ে নিন, তারপরে আপনার পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য গুল্মগুলি যুক্ত করুন এবং এটি পান করুন।

 এই চা সম্পর্কে সর্বোত্তম জিনিসটি হ'ল এটি ক্যাফিন মুক্ত এবং লোহিত শর্করার পরিমাণ উচ্চমানের লোকদেরও উপকার করে।

এই সমস্যাগুলি চলে যায়


আপনি যদি প্রতিদিন সকালে তুলসি খাওয়ার অভ্যাস করেন তবে এটি আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে। এটি কেবল সর্দি, কাশি নয় হজমের মতো সমস্যাও দূর করবে। এর পাতা হজমকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে। 

এর পাশাপাশি এটি অ্যাসিডিটি এবং পাকস্থলীর জ্বালা সমস্যাও দূরে রাখে। তুলসি শরীরের পিএইচ স্তর বজায় রাখতেও সহায়ক।


এখানে এমন ১০টি রোগের বিষয়ে আলোচনা করা হল, যেগুলো সারাতে তুলসির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

১. কিডনির পাথর : তুলসি পতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কমায়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি মধু দিয়ে তৈরি চুলসি পাতার রস খাওয়া যায়, তাহলে কিডনির পাথর গলে তো যায়ই, সেই সঙ্গে শরীর থেকে তা বেরিয়েও যায়। প্রসঙ্গত, তুলসি পাতায় যে ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে তা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফেল কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

২. হার্ট ভালো রাখে : ইউজেনল নামে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তুলসি পাতায়, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টরলের মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখে। আর এ কথা তো সকলেরই জানা যে এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। আপনি কি কোনো রকমের হার্টের রোগে ভুগছেন? তাহলে রোজ সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খান। দেখবেন অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

৩. ক্যানসার রোগকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে : প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ এবং অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্ট থাকায় তুলসি পাতা খেলে ক্যানসার রোগও দূরে পালায়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, রোজ যদি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যানসার কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস করে তুলসি পাতার রস খেলে পরিবেশে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরকে নষ্ট করতে পারে না। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৪. নানা রকমের স্টমাক সম্পর্কিত রোগ কমায় : গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে গ্যাস্ট্রিক প্রবলেম, আলসার, ব্লটিং প্রভৃতি রোগের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আর তুলসি পাতা এইসব রোগ সারাতে দারুণ কাজে আসে। প্রতিদিন এক চামচ তুলসির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে নানা রকমের পেটের রোগ একেবারে দূরে পালায়।

৫. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুগারের সবথেকে বড় যম। আর এই উপাদানটি বিপুল পরিমাণে রয়েছে তুলসি পাতায়। তাই তো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা যদি চেবানো যায়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে এক সঙ্গে অনেক চুলসি পাতা খেয়ে নিলে কিন্তু হঠাৎ করে শর্করারা মাত্রা কমে গিয়ে অন্য় বিপদ হতে পারে। তাই অল্প করে তুলসি পাতা খাওয়া উচিত।

৬. মুখের দুর্গন্ধ দূর করে : সকাল সকাল কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের ভেতর জন্ম নেওয়া নানান ক্ষতিকর ব্য়াকটেরিয়া মারা যায়। ফলে মুখ থেকে আর বাজে গন্ধ বেরয় না। প্রসঙ্গত, দাঁতকে নানা জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতেও তুলসি পাতা দারুন কাজে দেয়।

৭. জ্বর ও ঠাণ্ডা লাগা কমায় : সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসা কথাটা বাস্তবিকই ঠিক যে জ্বর এবং ঠান্ডা লাগা কমাতে তুলসির কোনও বিকল্প নেই। আসলে তুলসি পাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও জোরাল করে দেয়। ফলে রোগ-ভোগ কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয় এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল প্রপাটি নানা ধরনের সংক্রমণ থেকেও আমাদের দূরে রাখে।

৮. চোখের নানা রোগ সারায় : নানা ধরনের ছোট-বড় চোখের রোগ সারাতে তুলসি পাতার কোনও বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত, ভিটামিন- এ-র ঘাটতির কারণে যে যে চোখের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে তুলসি পাতা।

৯. স্ট্রেস কমায়: শরীরে অ্যান্টি-স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে তুলসি পাতা দারুন কাজে দেয়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। আসলে তুলসি পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি স্ট্রেস এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদানের শক্তি কমতে থাকে, সেই সঙ্গে কমতে শুরু করে স্ট্রেসও।

১০. মাথা যন্ত্রণা কমায়: একটা বড় পাত্রে জল নিয়ে তাতে কয়েকটা তুলসি পাতা ফেলে দিন। তরপর সেই জলটা ফুটিয়ে নিন। এবার মাথা টাওয়ালে ঢেকে সেই জলের ভাব নিলে দেখবেন মাথা যন্ত্রণা কমে যাবে। আসলে তুলসি পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে য নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে ফেলতে কার্যকরি ভূমিকা নেয়।

No comments:

Post a Comment